কবি হেলাল হাফিজের নানা রঙের দিনগুলি…
হেলাল হাফিজ এক নিভৃতচারী বরেণ্য কবির নাম। যে জলে আগুন জলে এই একটি মাত্র গ্রন্থ দিয়েই তিনি পেয়েছেন কিংবদন্তীতুল্য জনপ্রিয়তা। প্রেম আর দ্রোহ তার কবিতায় পেয়েছে শিল্পিত সুষমা। বাংলা কবিতার সর্বাধিক পাঠক প্রিয় কবি হেলাল হাফিজের একটি বিশেষ আলাপচারিতা। আলাপচারিতাটি অনুলিখন করেছেন মো. জহুরুল ইসলাম।

জন্ম
আমি জন্মে ছিলাম ১৯৪৮ সনের ৭ অক্টোবর। আমার জন্মস্থানকে আমি বোন বলে সম্বোধন করেছি কবিতায়। সে জন্মস্থান এবং কবিতাটির নাম হচ্ছে নেত্রকোণা। আমি জন্মেছিলাম নেত্রকোণা শহর থেকে এই ১২-১৩ কিলোমিটার দূরে আমাদের যে গ্রামের বাড়ি পৈতৃক গ্রামের বাড়ি বোসতলি গ্রামে। আমার পিতার নাম খোরশেদ আলী তালুকদার এবং মাতার নাম ককিলা খাতুন। আমার যখন তিন বছর বয়স তখন আমি এবং আমার এক মাত্র সহোদর অগ্রজ এই দুই ভাইকে রেখে আমার মা পরোলোকগমন করেন। পরে বেশ কিছুদিন পর আব্বা আবার দ্বিতীয় বিবাহ করেন। সেই তরফে আছে আমার আরও দুই ভাই ও তিন বোন। অর্থ্যাৎ আমার চার ভাই ও তিন বোন। এই হচ্ছে আমার পারিবারিক কাঠামো।
অম্ল মধুর শৈশব
আমার শৈশব কৈশোর নেত্রকোণার সেই সিমসাম মনোরম শহরে খুব নিরাপদেই কেটেছে বলব। তবে অতোটা আনন্দঘন ছিল না আমার সেই জীবন। যেহেতু খুব অল্প বয়সে মাতৃহীন হয়েছিলাম, তার নানা ধরনের প্রভাব আমার জীবনে পড়েছিল। আমি আমার পিতাকেই মা এবং বাবা এই দুটো চরিত্রেই ভেবেছি, কল্পনা করেছি। আমার সেই ব্যতিক্রমী শৈশব এবং কৈশোরে দুইজন মানুষ আমাকে খুব বেশি প্রভাবিত করেছিলেন। তার একজন হলেন আমার জনক আমার পিতা আরেকজন হলেন ছবিতা সেন নামের নেত্রকোণায় একজন স্কুল মিসট্রেস ছিলেন এবং সুগায়িকা বিদুষী এবং রূপসী নারী। এই নারীর মাঝে আমি একটি দ্বৈত স্বত্ত্বা খুঁজে পেয়েছিলাম। প্রথমে তাঁকে আমি আমার মায়ের স্থালাভিষিক্ত করি, তাঁকে দেখলেই আমার মনে হতো এইতো আমার মা। কিন্তু বয়স যত বাড়তে লাগল আমার, আমি যখন বয়সসন্ধিকালে পৌঁছিলাম আমার এক ধরনের প্রেমানুভূতিও তৈরি হয়েছে তাঁকে ঘিরে। মাতৃহীনতার বেদনা এবং এই সবিতা মিসট্রেসের এই দ্বৈত ভূমিকা কিছু আমার কল্পনায় কিছুটা বাস্তবে এই দুটোর মিশেলে আমি আসলে যোগ্য হয়ে উঠেছি।
ছিলাম খেলাধুলার মানুষ
কৈশোর এবং প্রথম যৌবনে আসলে আমি মূলত ছিলাম খেলাধুলার মানুষ। ফুটবল ব্যাডমিন্টন, ভলিবল এমনকি ঐ রকম একটি মফস্বল শহরে আমি সেই সময়ে লং টেনিস খেলা শিখি। খেলাধুলা আমার এত প্রিয় ছিল কিন্তু প্রথম যৌবনে এসে ঐ যে মাতৃহীনতার বেদনা আমি আগে অতোটা অনুভব করতে পারিনি, বুঝতে পারিনি। সেই বেদনা এতটাই প্রকট হলো এতটাই আমাকে আড়োলিত করল অসম্ভব প্রভাবিত করল, যা আমি দেখলাম এই খেলাধুলা দিয়ে আমার এই বেদনা প্রশমিত হচ্ছে না। এই তখন আমি কবিতায় সুইটওভার করলাম।
পাঠশালার দিনগুলি
প্রাইমারি এবং স্কুল জীবন সেটা ছিলো নেত্রকোণায় ‘দত্ত হাইস্কুল’। খুব বিখ্যাত স্কুল নেত্রকোনার ‘দত্ত হাইস্কুল’। ১৯৬৫ সনে এসএসসি পাস করি। এবং নেত্রকোণা কলেজে আইএসসিতে ভর্তি হই। আর সেখানে দুই বছর পড়ে ১৯৬৭ সনে আইএসসি পাস করে আমি ১৯৬৭-১৯৬৮ শিক্ষাবর্ষে এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। আমি আমার জীবনের একেবারে টগবগে যৌবনে আটটি বছর কাটিয়েছি এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। এই কলা ভবনে। তখন তো বাংলা বিভাগ একবারে তারকা খচিত সব শিক্ষক, সেখানে সব দিকপালরা সব এই বাংলা বিভাগের শিক্ষক, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের সময় যে কবিতা লিখে আমি রাতারাতি তারকা খ্যাতি পেয়েছিলাম সেই ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ কবিতা ইকবাল হল এই বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কলাভবন এবং গ্রন্থাগারের পাশে শরিফ মিয়ার ক্যান্টিন নামে একটি ক্যান্টিন ছিল এবং নিউমার্কেট এই কয়েকটা জায়গায় কিন্তু আমার এই কবিতাটা রচিত। ছাত্রত্ব থাকতে থাকতেই আমি দৈনিক পূর্ব দেশে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করি। এবং সেই চাকরিও হয়েছিলো এই কবিতার সুবাদে। ৭২ সনে আমরা দিলাম সাবসিডিয়ারি, ৭৩ সনে অনার্স, আমি তো পূর্ব দেশে জয়েন করে গেলাম। জয়েন করে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করলাম। তারপর আর আমার পড়াশোনা হয়নি। আমার বিঘ্নিত হয়েছে পড়াশোনা। এখানেই আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সমাপ্তি।

হেলাল হাফিজ ১৯৭৩, ছবি: শামসুল ইসলাম আলমাজী
হল জীবন
আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আবাসিক হল ছিল তৎকালীন ‘ইকবাল হল’। এখন যেটা ‘সার্জেন্ট জহুরুল হক হল’। তো এই হল আমার জীবনে অসম্ভব প্রভাব ফেলেছে। তিনটি কারণে। তার প্রথম কারণ হচ্ছে, আমার নিষিদ্ধ সম্পাদকীয় কবিতাটি এটার চুড়ান্ত যে রূপ এখন যেটা আছে বইয়ে এটা কিন্তু এই হলে বসে রচিত। নিষিদ্ধ সম্পাদকীয় কবিতাটির জন্যে এই হলে চার বছরের পরিবর্তে আট বছর থাকতে পেরেছিলাম। দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে ১৯৭১ সনে এই যে আমার বামপাশে একদম এই যে আমার হাতের কাছে ২১৬ নম্বর রুম এই রুমে ২৫ শে মার্চ রাতেও আমি এই রুমে ছিলাম। আমরা প্রায় ২৫-৩০ জন ছেলে তখন হলে ছিলাম ২৫ শে মার্চ রাতে। যেহেতু তখন রান্না ঘর বন্ধ ছিল তো আমি খাবারের জন্য বাইরে গিয়েছিলাম একটা হোটেলে খাবারের জন্য। এই খাবার খেয়ে আমি ফজলুল হক হলে আমি আমার এক বন্ধুর সাথে দেখা করেত গিয়েছিলাম। ওখানেই আমাদের অড্ডা মারতে মারতেই গোলাগুলি শুরু হয়ে গেলো। আমি আর এই হলে ফিরতে পারিনি। সেজন্যে আমি আজকে এখন পর্যন্ত জীবিত। এই সব কারণে এই হল আমার জীবনে অসম্ভব প্রভাব ফেলেছে। এবং আমি যত দিন বেঁচে থাকব এই হলের কথা বিস্মরণ করা তথা ভুলে যাওয়া কিছুতেই সম্ভব না। আমি ১৭ বছর কবিতা লেখার পর আমার প্রথম বই যে জলে আগুন জলে প্রকাশ করেছিলাম। ১৯৮৬ সনে বই মেলায় এই বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়। এবং প্রায় সবাই এক বাক্যে স্বীকার করবেন নিশ্চয় কোন কবিতার বই এত পাঠক প্রিয়তা পায়, এত জনপ্রিয় হয়, এটা যে জলে আগুন জলে প্রকাশের আগে বোধ হয় হয়নি। বইটি ১৯৮৬ সনের বই মেলাতেই একাধিক সংস্করণ প্রকাশিত হয়ে এবং এখন পর্যন্ত এটার ২৫তম সংস্করণ বৈধ সংস্করণ, তার মানে এটার পাইরেসিও হয়েছে অসংখ্য। সমগ্র বাংলা সাহিত্যের কাব্যগ্রন্থে জনপ্রিয়তার নজির আছে বলে আমার মনে হয় জানা নেই। আমি আনন্দ পাই এই ভেবে যে আমার পরের একাধিক প্রজন্ম এই বইটিকে তাদের বুকে স্থান দিয়েছে। তাদের মনে এবং মগজে স্থান দিয়েছে। একজন কবির এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি এর চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছু হতে পারেনা।
আমার কবিতায় নারী
আমি যদিও দ্রোহের কবিতা লিখে প্রথম তারকা খ্যাতি পেয়েছিলাম সেই যে ৬৯এর গনঅভ্যুত্থানের সময় নিষিদ্ধ সম্পাদকীয় কবিতা এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়। কিন্তু পরবর্তী কালে নিয়তি আমাকে এই দ্রোহ থেকে একটু সরিয়ে আরেক ধরণের দ্রোহের কাছে পৌঁছে দিলো। এই দ্রোহের নাম প্রেম, সেই দ্রোহের নাম ভালোবাসা, সেই দ্রোহের নাম বিরহ-বিচ্ছেদ। আমার অনেক প্রেমের কবিতায়, অনেক বিরহের কবিতায় মানুষের মনে গেঁথে আছে আমি বুঝতে পারি। আমার কবিতায় তো নারী এসেছে অনেকবার একেবারে নাম উল্লেখ করেও অনেক কবিতায় আমার নারী নাম আছে। যেমন সবিতা মিস্ট্রেস, যেমন রানা যেমন হেলেন, যেমন কিরণবালা, এরা কিন্তু প্রত্যেকে আমার জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ চরিত্র। এই নারী চরিত্রগুলো আমাকে অসাধারণ কিছু কবিতা লিখতে প্রণোদনা দিয়েছে, প্ররোচিত করেছে।
এখন তুমি কোথায় আছো কেমন আছো,
পত্র দিয়ো।
এক বিকেলে মেলায়
কেনা খামখেয়ালির তাল পাখাটা
খুব নিশীথে তোমার হাতে কেমন
আছে, পত্র দিয়ো। ক্যালেন্ডারের কোন
পাতাটা আমার মতো খুব ব্যথিত
ডাগর
চোখে তাকিয়ে থাকে তোমার
দিকে, পত্র দিয়ো।
কোন কথাটা অষ্টপ্রহর কেবল বাজে মনের কানে
কোন স্মৃতিটা উস্কানি দেয়
ভাসতে বলে প্রেমের বানে
পত্র দিয়ো, পত্র দিয়ো।
আর না হলে যত্ন করে ভুলেই যেয়ো,
আপত্তি নেই। গিয়ে থাকলে আমার গেছে, কার
কী তাতে?
আমি না হয় ভালোবেসেই ভুল
করেছি ভুল করেছি,
নষ্ট ফুলের পরাগ মেখে
পাঁচ দুপুরের নির্জনতা খুন করেছি, কি আসে যায়?
এক জীবনে কতোটা আর নষ্ট হবে,
এক মানবী কতটা আর কষ্ট দেবে!
আমি যখন লেখালিখি শুরু করি, ঢাকাতে যখন আসলাম ১৯৬৭ সনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম। আমার প্রথম অড্ডা হলো বিউটি বোডিংএ। সেই সময়কার সব বিখ্যাত কবি সাহিত্যিকরা চিত্রশিল্পীরা পুরোনো ঢাকার বিউটি বোডিং এ আড্ডা দিতেন। সেখানে আমার সঙ্গে পরিচয় হয়েছে শহীদ কাদরীর, পরিচয় হয়েছে শামসুল হকের, পরিচয় হয়েছে শামসুর রাহমানের সঙ্গে। নির্মলেন্দু গুনের সঙ্গে আমার আগেই পরিচয় ছিলো, যেহেতু আমাদের বাড়ি একই জায়গায় নেত্রকোনায়। তারপরে আমার অড্ডা সবচেয়ে বেশি আড্ডার জীবন কেটেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে লাইব্রেরি গ্রন্থাগার, সেই গ্রন্থাগারের পাশেই একটা ছোট্ট রেস্টুরেন্ট ছিল ছাপরা রেস্টুরেন্ট, সেটার মালিক ছিলেন শরিফ ভাই। শরিফ মিয়ার ক্যান্টিন নামে সেটা খুব পরিচিত ছিল। এই শরিফ মিয়ার ক্যান্টিনে আমরা এই নির্মলেন্দু গুণ আবুল হাসান আমি শহীদ কাদরী মাঝেমধ্যে আসতেন, মান্নান সৈয়দ মাঝে মাঝে আসতেন। সিকদার আমিনুল হক আসতেন, এরকম মানে যারা প্রতিষ্ঠিত এবং নবীন কবি সাহিত্যিক প্রত্যেকে এখানে আড্ডা দিতেন। আমি যেহেতু হলে থাকতাম, হলে আমার সিট ছিল, তো হলে গুণ এবং হাসান প্রায়শই রাত্রি যাপন করতেন আমার হলের রুমে। তো আমার রুমমেট তার সিট ছেড়ে অন্য রুমে চলে যেতো। আমরা তিনজন কোন দিন প্রকৃতস্থ কোন দিন অপ্রকৃতস্থ চিত্তে আমাদের রজনী কেটেছে। কিংম্বা নির্ঘুম কেটেছে আমাদের নিশিথ।

১৯৮৫ সালে নারায়ণগঞ্জের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কবি আবুল হাসান, শামসুর রাহমান, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, মোহাম্মদ রফিক, রফিক আজাদ, মহাদেব সাহা ও নির্মলেন্দু গুণের সঙ্গে হেলাল হাফিজ (সবার বাঁয়ে)
স্বেচ্ছা-নির্বাসন
৮৬ সনে যখন আমার যে জলে আগুন জলে বের হলো তারপর থেকে তো আমি একবারেই এক ধরনের একটা নির্বাসিত জীবন, স্বেচ্ছা নির্বাসন জীবন গ্রহণ করেছি। অর্থ্যাৎ গত ২৬-২৭ বছর আমাকে লোকালয়ে খুব কম মানুষই দেখেছেন। আমি একবারেই নিভৃতে নির্জনে আমার জীবন অতিবাহিত করে, এখন তো আমি একটা হোটেলে থাকি। সেই কক্ষে আমি যখন প্রেসক্লাব থেকে ফিরি আমার এই পরিণত বয়সে এই পড়ন্ত বেলায় এসে, এই নিসঙ্গতা এখন আর আনন্দ দেই না, এক ধরনের পীড়ায় দেয় বলতে হবে। আমি এটা এক ধরনের অস্বস্তিই তৈরি করছে বলতে হবে আমার মধ্যে।
ঘরহীন ঘর
এই আমার প্রাণপ্রিয় প্রেসক্লাব, আমার যাপিত জীবনের একমাত্র গৃহ। আশ্চর্যের বিষয় ১৯৭২ সনে আমি যখন তৎকালীন দৈনিক পূর্ব দেশে সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে যোগদান করি তখনো আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ হয়নি। ছাত্রত্ব শেষ হয়নি। ঐ ৭২ সন থেকেই আমি প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য এবং এই দীর্ঘ প্রায় চোচোল্লিশ বছর পয়তাল্লিশ বছর আমি তিন বেলায় আমি প্রেসক্লাবে আহার গ্রহণ করি। আমি যখন প্রেসক্লাবে ঢুকি আমার মনে হয় যেনো আমি আমার গৃহে প্রবেশ করলাম। আবার রাতের খাবার খেয়ে বের হয়ে যায় আমার যেখানে ডেরা, আমি যেখানে থাকি, তখন মনে হয় আমি আমার গৃহ ত্যাগ করে একটা ঘরহীন ঘরে রওনা দিয়েছি। এই প্রেসক্লাব আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে মমতায়, স্নেহে, মায়ায়। এবং আমার যে এখন পর্যন্ত একমাত্র কাব্যগ্রন্থ যে জলে আগুন জলে তারও পাণ্ডুলিপি কিন্তু এই প্রেসক্লাব লাইব্রেরিতে বসে তৈরি করা। অর্থ্যাৎ আমার ব্যক্তিজীবন এবং সাংবাদিক জীবন এবং শিল্প সাহিত্যের যে কবিতার জীবন পুরাটার মধ্যে জড়িয়ে আছে ছড়িয়ে আছে এই প্রেসক্লাব।
স্বীকৃতি
আমার কাছে মুখ্য বিষয় হচ্ছে মানুষের ভালোবাসা। সেটা আমি কানায় কানায় আমার জীবন ভরে দিয়েছে সেই ভালোবাসা। আর আনুষ্ঠানিক বেসরকারি পুরষ্কার আমি অনেক পেয়েছি। যেমন আমার বইটা যখন বেরোলো ৮৬ সনে প্রথমেই আমি যশোর সাহিত্য পরিষদ পুরষ্কার পাই। তারপর ময়মনসিংহে পেলাম ময়মনসিংহ সাহিত্য পরিষদের আবুল মনসুর আহমদ সাহিত্য পুরষ্কার, তারপর নেত্রকোনায় পেলাম খালেকদাদ চৌধুরী সাহিত্য পুরষ্কার, এররকম বিভিন্ন জায়গায় অনেক বেসরকারি পুরষ্কার আমি পেয়েছি। আর এক ধরণের রাষ্ট্রীয় সম্মান যাকে বলা যায়, সেটা পেয়েছি আমি ২০১৩ তে। বাংলা একাডেমি পুরষ্কার। আমি আগেই উল্লেখ করেছি যে, এক ধরনের তৃপ্তি আমি পেয়েছি মানুষের কাছে। অকৃত্রিম সেই ভালোবাসা যার, এটার অপরিশোদ্ধ ঋণ কখনোই শোধ করা যাবেনা।

হেলাল হাফিজ। ছবি: জিয়া ইসলাম
জীবন অমূল্য
এই যে অমূল্য মানব জীবন আমি বা আমরা পেলাম এর যেনো স্বদব্যবহার হয়, এটা যেনো কোনো ক্রমে ভুল পথে বিড়াড়িত না হয়, এই জীবন এবং অপব্যায় না হয়, সেদিকে আমাদের সকলের দৃষ্টি রাখতে হবে। এই পড়ন্ত বেলায় দাঁড়িয়ে আমার মনে হচ্ছে হ্যাঁ অনেক কিছু হয়তো করতে পারিনি, অনেক কিছু পায়নি, আবার পেয়েছিও অনেক। কত কিছু যে পেয়েছি কত টুকুন যে পেয়েছি এর কোন হিসেব নেই। সুতারং শুধু আহাজারি না করে হাহাকার না করে প্রপ্তির কথাটাও আমাদের একটু মনে এবং মগজে রাখতে হবে। আসলে কোন প্রাপ্তি পূর্ণ প্রাপ্তি নয়। এই কথাটা মনে রাখতে হবে।
** সাক্ষাৎকারটি বাংলাভিশনের ‘নানা রঙের দিনগুলি নানা’ অনুষ্ঠানে প্রচারিত হয়।
